লন্ডনে বিএনপির সদস্য পদ নবায়ন করলেন তারেক রহমান

0
21
‘শত নির্যাতন-ষড়যন্ত্রের মধ্যেও বিএনপি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল’
আরবিএন রিপোর্ট

বিএনপির সদস্য পদ নবায়ন করলেন লন্ডনে অবস্থানরত দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কেন্দ্রীয় বিএনপির দু‘মাসব্যাপী সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচীর অংশ হিসাবে সোমবার যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচী অনুষ্ঠানে তিনি এ সদস্য পদ নবায়ন করেন।

সদস্যপদ নবায়নের মাধ্যমে কর্মসূচীর উদ্বোধন করে তারেক রহমান বলেন, গত এক দশক ধরে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মী সমর্থকদের গুম, খুন, নির্যাতন, নীপিড়ন, হামলা, মামলা ও অপপ্রচার চালিয়েছে এসব বাধা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপির সদস্য হওয়ার জন্য দেশে ও প্রবাসে লাখো লাখো মানুষের আগ্রহ প্রমাণ করে বিএনপি একটি আদর্শের নাম। বিএনপি দেশের জনগণের কাছে বিশ্বস্ততার প্রতীক। বিএনপি এমন একটি দল যে দল জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা রক্ষা করে। বিএনপি মুক্তিযোদ্ধার দল, বিএনপির শান্তি ও সংহতির প্রতীক। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে এখনো দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল।

পূর্ব লন্ডনের রয়েল রিজেন্সি অডিটরিয়ামে আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক। পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদ। বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী দলীয় সদস্য পদ গ্রহণের জন্য সারিবদ্ধভাবে তাদের প্রিয় নেতার কাছে আবেদনের কপি জমা দেন।

সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, শুধু বিএনপিই নয়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও দেশপ্রেমিক জনগণের কাছে একটি আদর্শ ও ন্যায়ের প্রতীক। জিয়াউর রহমান শুধু মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্টই ছিলেন না তিনি দেশে জনগণের সরাসরি ভোটে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট। অথচ প্রতিবছর আগস্ট মাস এলেই শহীদ জিয়ার বিরুদ্ধে শুরু হয় আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত মিথ্যাচার।

তারেক রহমান বলেন, শেখ হাসিনা নিজেই স্বীকার করেছেন, আওয়ামী লীগ নেতারাই শেখ মুজিব হত্যাকান্ডে জড়িত ছিলো। শেখ মুজিব হত্যাকান্ডের সময়কার সেনাপ্রধান বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতা মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ পত্রিকা ও টেলিভিশনে সাক্ষাতকার দিয়ে বলেছেন, শেখ মুজিব হত্যাকান্ডের সঙ্গে শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই শেখ সেলিম জড়িত ছিলো। ১৯৭৫ সালে গণবাহিনীর নগর কমান্ডার আনোয়ার হোসেন টেলিভিশনের সাক্ষতাকার দিয়ে বলেছেন, শেখ মুজিব হত্যাকান্ডের পরপরই গণবাহিনীর প্রধান কর্নেল তাহের, সেকেন্ড ইন কমান্ড হাসানুল হক ইনু এবং অনোয়ার হোসেন নিজে রেডিও অফিসে গিয়েছিলেন। রেডিও অফিসে গিয়ে তারা শেখ মুজিব হত্যা পরবর্তী সরকারকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।

তারেক রহমান বলেন, এখন এদের কাউকে মন্ত্রী কাউকে ভিসি কিংবা কাউকে এমপি বানিয়ে শেখ হাসিনা যেভাবে শহীদ জিয়া সম্পর্কে মিথ্যাচার করছেন বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে এইসব মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, শেখ মুজিব হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট। আর জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ১৯৭৭ সালের ২১শে এপ্রিল। মাঝখানের সময়ের ব্যবধান প্রায় দুই বছর। এই সময়ের মধ্যে দু‘জন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরমধ্যে খালেদ মোশাররফ সেনা অভ্যুত্থান করে জিয়াউর রহমানকে বন্দী করেছেন। ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি মুক্তি লাভ করেন। সুতরাং এটি স্পষ্ট, জিয়াউর রহমান কোন ষড়যন্ত্র করলে তাকে প্রেসিডেন্ট হতে দু‘বছর অপেক্ষা করতে হতোনা।

তারেক রহমান নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশ এখন এক গভীর সংকটে। মানুষের স্বাধীনতা নেই। মানুষ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু লিখলেও তাকে গ্রেফতার করা হয়। নির্যাতন করা হয়। তিনি বলেন, এই সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসেই হত্যা নির্যাতন শুরু করে। প্রথমেই ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআর পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের নামে কেন ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাতে হত্যা করা হয়। শেখ হাসিনা কঠোর ব্যবস্থা নিলে এত সেনা কর্মকর্তাকে নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হতোনা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এটি ছিলো পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।

তারেক রহমান বলেন, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক সাগর-রুনি দম্পতি রাজধানীতে নিজ বাসায় নির্মমভাবে খুন হয়। হত্যাকান্ডের পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন, এই হত্যা মামলা শেখ হাসিনা তদারকি করছেন। তারেক রহমান প্রশ্ন করে বলেন, তাহলে কেন আজ পর্যন্ত হত্যাকান্ডের কারণ জানা গেলোনা? তিনি বলেন, শোনা যায়, শেখ হাসিনার পরিবারের কোন সদস্য কিংবা আত্মীয়ের বড় রকমের দুর্নীতির তথ্য প্রমাণ এই সাংবাদিক দম্পত্তির কাছে ছিলো। তারেক রহমান প্রশ্ন করে বলেন, এই কারণেই কি এই ডাবল মার্ডারের রহস্য বের হচ্ছেনা?

তারেক রহমান বর্তমান সরকারকে দুর্নীতিবাজ উল্লেখ করে বলেন, এই সরকারের আমলে শেয়ার বাজার লুট করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকরীদের ৯৮ হাজার কোটি টাকা লোপাট করা নেয়া হয়েছে। লুটের পর আবুল মাল ক্ষুদ্র বিনিয়োগকরীদের বলেন “ফটকা“। তিনি বলেন, অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর কথিত তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টাকে বছরের পর বছর ধরে প্রতি মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা বেতন দেয়া হচ্ছে। কেনো তাকে বেতনের নামে কোটি কোটি টাকা দেয়া হয়েছিলো সেটি কি জনগণকে জানানো হয়েছিলো? তারেক রহমান বলেন, কথিত এই তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টার সময়েই তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ড থেকে ৮১০ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। এই লোপাটের ঘটনা ধামাচাপা দেয়া চেষ্টা করা হয়েছিলো। কিন্তু ফিলিপাইনের একটি পত্রিকায় এ ব্যাপারে সংবাদ প্রকাশ হলে ঘটনা দেশের মানুষের কাছে জানাজানি হয়ে যায়।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা নানা বিষয়ে নিত্য কথা বলেন, তার পূত্র যে কোন ইস্যুতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ডের ৮১০ কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় তারা নিশ্চুপ কেন? তারেক রহমান বলেন, চলতি বছরের ২৯ মার্চ দেশের সকল পত্রিকায় যুক্তরাষ্টের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ে‘র বরাত দিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, “বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ডের টাকা চুরি হয়েছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়“। বর্তমান সরকারকে ব্যাংক ডাকাত সরকারকে আখ্যা দিয়ে তারেক রহমান বলেন এখন দেখছি “চোরের মায়ের বড় গলা“।

তারেক রহমান চলতি বছরের ২৯ জুন সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) এর ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড ২০১৬’ রিপোর্ট উল্লেখ করে বলেন, সুইস ব্যাংকে বিশ্বের সবদেশের টাকা জমা রাখার পরিমাণ কমছে কিন্তু বাংলাদেশের বাড়ছে। এরা কারা? তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম কিংবা কানাডায় বেগম পাড়ায় কারা বাড়ী বানাচ্ছে। তিনি বলেন, সেদিন আর বেশী দুরে নয় যেদিন এই ব্যাংক ডাকাত সরকারের কবল থেকে জনগণ দেশ উদ্ধার করবে।

তিনি বলেন, এই ব্যাংক ডাকাতরা এখন উন্নয়নের কথা বলে। উন্নয়ন কোথায়? একটু বৃষ্টি হলেই রাজধানী ঢাকা আর চট্টগ্রাম মহানগরীতে নৌকা চলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলাম এক তরুণ ডাকার একটি রাজপথের ছবি ফেসবুকে আপলোড দিয়ে কমেন্ট করেছে “পানির নীচে রাস্তা আছে“। কেউ কেউ মজা করছে “নিউ মার্কেট কোন নদীর তীরে অবস্থিত। তিনি বলেন, পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁস আর পরীক্ষায় নকল এখন নিয়মে পরিণত করা হয়েছে।

তিনি প্রশ্ন করেন, তাহলে উন্নতিটা কোথায়? তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের উন্নতি হলো ব্যাংক ডাকাতি লুটপাট আর ধর্ষণ। তারেক রহমান বলেন, নিজ দলের নেতাকর্মীদের দুর্নীতি লুটপাট ও চুরির ব্যাপারে শেখ মুজিবুর রহমানও একবার মন্তব্য করে বলেছিলেন, “সবাই পায় সোনার খনি আর আমি পেয়েছি চোরের খনি“।

চলতি বছরের ২১ মার্চ মাগুরায় এক সভায় শেখ হাসিনা বলেছিলেন, “বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসেছে আমেরিকা এবং “র এর সঙ্গে মুচলেকা দিয়ে“। শেখ হাসিনার এই মন্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপিকে কারো কাছে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় আসেতে হয়না। জনগণের শক্তিতেই বিএনপি বিশ্বাস করে। তিনি বলেন, মুচলেকা দিয়ে কারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছে, দেশের প্রতিটি নাগরিক জানে। মুচলেকা দেয়ার কারণেই হতভাগ্য ফেলাণীকে মেরে সীমান্তে লাশ ঝুলিয়ে রাখলেও এদের প্রতিবাদ করার সাহস পায়না। বাংলাদেশের বুকের উপর দিয়ে ট্রানজিট -ট্রান্সশিপমেন্ট দেয়া হলেও বাংলাদেশের ন্যয্য পাওনা চাওয়ারও সাহস এদের নেই।

তারেক রহমান দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ দুর্নীতি এবং লুটপাটের টাকা রক্ষায় নানারকম ষড়যন্ত্র করবে, নানা গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করবে, পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করবে। নানা অপপ্রচার এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করবে। তারেক রহমান দলীয় নেতাকমীদের সবাইকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আহবানে সাড়া দিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here