টিউলিপ সিদ্দিকীর বক্তব্য-‘আমি বাংলাদেশী না’ ও জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইনের সুবিধা

0
832

অলিউল্লাহ নোমান
লন্ডনে চ্যানেল-৪ এর কাছে ইন্টারভিউতে বৃটিশ সংসদ সদস্য টিউলিপ সিদ্দীকি দাবী করেছেন তিনি বাংলাদেশী কেউ নন। এতে প্রশ্ন উঠেছে তাহলে ২০০৯ সালে প্রণীত ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন’-এর আওতায় টিউলিপ সিদ্দিকী পড়েন কিনা। ২০০৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী দ্বিতীয়বারের মত ক্ষমতায় এসেই আওয়ামী লীগ এই আইনটি প্রণয়ন করে জাতীয় সংসদে। এটি ২০০৯ সালের প্রণীত ৬৩নং আইন। এই আইনে জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘জাতির পিতার দুই জীবিত দুই কণ্যা এবং তাঁহাদের সন্তানাদি’। আইনে বর্ণিত সংজ্ঞা অনুযায়ী টিউলিপ সিদ্দীকি শেখ রেহানার সন্তান। সেই হিসাবে তিনি বিশেষ সুবিধা প্রাপ্তির অধিকার রাখেন। এ আইনে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের দুই কণ্যা ও তাঁদের সন্তানাদির জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সরকারি তত্ত্বাবধানে বাসস্থান ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। বাংলাদেশের আর কোন নাগরিক এই বিশেষ নিরাপত্তা ও সুযোগ সুবিধার আওতায় নেই।


প্রশ্ন হচ্ছে টিউলিপ সিদ্দিকী এ আইনের আওয়তায় কখনো বিশেষ সুবিধা নিয়েছেন কি না। অথবা ভবিষ্যতে বাংলাদেশে গেলে এ আইনের আওতায় সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখেন কি না। যদিও তাঁর মা শেখ রেহানা নিয়মিত বাংলাদেশে যাতায়াত করছেন এবং আইনটির আওতায় বিশেষ নিরাপত্তা ও সুযোগ, সুবিধা নিচ্ছেন।
২০১৩ সালে তাঁর বিয়ে উপলক্ষ্যে খালা শেখ হাসিনা বিশেষ বহর নিয়ে সরকারি খরচে লন্ডনে ভ্রমন করেছেন। এছাড়া রাষ্ট্রীয় সফরেও খালার সাথে বাংলাদেশের মানুষের টেক্সের টাকায় বিশেষ সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন দেশে ভ্রমন করতেও দেখা গেছে তাঁকে।

এদিকে গত মঙ্গলবার লন্ডনে চ্যানেল-৪ সংবাদটি প্রচারের আগেই ব্যারিষ্টার মীর আহমদ বিন কাশেম আরমানের পরিবারের ঢাকার বাসায় তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ ও র‌্যাব। এসময় পরিবারের সদস্যদের সাথে অসদাচরণ করা হয় বলেও জানা গেছে। তাদেরকে নানা হুমকি দেওয়া হয়। চ্যানেল-৪ সংবাদটি প্রচারের আগে বাংলাদেশে গুম হওয়া আরমানের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিল টিউলিপ সিদ্দিকীর কাছে। তখন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ক্ষিপ্ত কন্ঠে বলেন, বাংলাদেশী কেউ নন। তাঁর জন্ম বৃটেনে। বড় হয়েছেন বৃটেনে। বৃটিশ লেবার পার্টির সদস্য ও কিলবান-হ্যামস্স্ট্যাট এলাকা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। চ্যানেল-৪ তাঁর কাছে ব্যারিষ্টার আরমানের গুম হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চেয়েছিল এই খবরটি বাংলাদেশে খালার কাছে পৌছে দেন সংবাদ প্রচার হওয়ার আগে। এতে চ্যানেল-৪ সংবাদ প্রচারের আগেই সোমবার রাতে আরমানের পরিবারের বাসায় পুলিশ-র‌্যাব ব্যাপক তল্লাশি চালায়। মঙ্গলবার খবরটি প্রচারের পর আবারো তল্লাশি চালানো হয় আরমানের পরিবারের বাসায়। এতে ব্যারিষ্টার আরমানের বৃদ্ধা মা, বোন ও স্ত্রী সন্তানরা এখন ভীত সন্ত্রস্ত। ব্যাপারটি এরকম যে এক বছরের বেশি সময় ধরে গুম করে রাখা ব্যাক্তিকে নিয়ে বিদেশে কোন সংবাদ মাধ্যমও কিছু প্রচার করতে পারবে না!


২০১৬ সালের ৯ আগষ্ট ব্যারিষ্টার আরমানকে মীরপুর ডিওএইচএস-এর বাসা থেকে অপরহণ করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকরা। তাঁকে অহরণের আগের রাতেও র‌্যাব গিয়েছিল বাসায়। তখনো তাঁকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল র‌্যাব। র‌্যাবের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল তাদের সাথে যাওয়ার জন্য। কেন যেতে হবে, তাদের কাছে কোন ওয়ারেন্ট রয়েছে কি না এসব বিষয়ে প্রশ্ন করার পর র‌্যাব সেদিন চলে যায়। কিন্তু, পরের দিন ঠিকই হাজির হয় সাদা পোশাকে। তখনো তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল ওয়ারেন্ট এবং আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে। সেদিন আর রেহাই পাননি আরমান। তাকে রীতিমত জোর করেই নিয়ে যাওয়া হয়। স্ত্রী ও বোন বাসার নিচে পর্যন্ত গিয়েছিলেন কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেটা জানতে। সেই উত্তর না দিয়েই ডিওএইচ-এর মত সুরক্ষিত এলাকার বাসা থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় একটি সাদা মাইক্রোতে উঠিয়ে। এর পর থেকে তাঁর কোন হদিস পাননি পরিবার। এনিয়েই চ্যানেল-৪ একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ গত মঙ্গলবার। এতেই উঠে আসে টিউলিপ সিদ্দিকীর বক্তব্য।

Father of the Nation’s Family Members Security Act approved

লেখক: দৈনিক আমার দেশ (সরকার জোর করে বন্ধ রেখেছে)-এর বিশেষ প্রতিনিধি, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here