কোটা -সংস্কার আন্দোলন : প্রয়োজন সতর্কতা ,ধারাবাহিক কর্মসূচি ও সার্বজনীন অংশগ্রহণ

0
15

——- সিরাজুল ইসলাম শাহীন

ছাত্রদের কোটা -সংস্কার আন্দোলনের সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত। দাবীর যৌক্তিকতা ,আন্দোলনকারীদের দৃঢ়তা , গুলি – হামলা- হুমকি -ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সফলতা এবং হীন রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের ঊর্ধ্বে থাকায় অধিকার আদায়ের ইতিহাসে এটি এখন নিঃসন্দেহে মাইলস্টোন। কিন্তু সতর্ক অবস্থানের সামান্য ব্যাত্যয় হলে অর্জনের খাতায় শুধু শূন্যই নয় – ফ্যাসিবাদের হিংস্রতায় নতুন আরেক ট্রাজেডি ঘটে যেতে পারে। কতিপয় বিষয় তাই অতীব গুরুত্বের সাথে নেয়া প্রয়োজন : —
১. ছাত্রলীগ নেত্রী ‘এশা ‘ প্রসঙ্গ : – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগ সভানেত্রী ইশরাত জাহান এশা দলীয় পদ এবং ঢাবির ছাত্রত্ব দ্রুততার সাথে ফিরে পেয়েছেন। তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর অশ্রু, দলকানাদের মায়াকান্না, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি-সেক্রেটারী সহ নেতা-নেত্রীদের মাল্যদান আর ফটোসেশনে হিরো বানানোর আয়োজন চূড়ান্ত প্রায়। অথচ সেদিন রাতে ছাত্রীদের টর্চারকালীন এশা’র রুদ্র-মূর্তির তর্জন-গর্জন -অশ্লীল শব্দে ভরপুর দীর্ঘ অডিও ক্লিপ , ভিসি ও প্রক্টর মহোদয়ের সরেজমিন তদন্ত পরবর্তী বক্তব্য ,নির্যাতিত ছাত্রীদের আর্তচিৎকার ও রক্তাক্ত ফুটেজ , ঘটনা পরবর্তী উত্তাল পরিস্তিতির বিস্তারিত বিবরণ অনলাইনে ভাইরাল হয়ে আছে। প্রকৃত সত্য দিবালোকের মত সকলের কাছে স্পষ্ট থাকার পরও মিথ্যা নাটক সাজিয়ে অভ্যস্ত আওয়ামী মহল স্ক্রিপ্ট পাল্টিয়ে দেয়ার অভিযানে নেমে পড়েছে। এতে তারা এতই বেপরোয়া যে হলের ফ্লোরে থাকা নিপীড়িত ছাত্রীদের রক্তের দাগ শুকানোর সময়টুকুও দেয় নি। কারন তাদের রয়েছে সুনির্দিষ্ট টার্গেট – এ যাত্রায় সফল হতে পারলে আন্দোলনের মূল সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই এর টুটি চেপে ধরতে পারবে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে যে কোন ছাড় দেয়া হবে আত্মঘাতী । সন্ত্রাসী নেত্রী এশা সহ সকল হামলাকারী – হুমকিদাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দুর্বার আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে হবে। পল্টিবাজ প্রশাসন – শিক্ষক -নেতা -নেত্রীদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করতে হবে।
২. অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তা প্রসঙ্গ : – এ সরকারের চরম বেপরোয়া আচরণের পিছনে রয়েছে অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তাদের বাড়াবাড়ি। এই আন্দোলনেও এর নিদর্শন স্পষ্ঠ। ” এই, একদম খাইয়া ফালামু ” – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জনৈক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাকে এমন জঘন্য ভাষায় ধমক দিতে দেখা যায়। কুখ্যাত পাকিস্তান আমলেও যা ছিল অবিশ্বাস্য। এই পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হতে হবে। এটি সংশ্লিষ্টদের জন্য সতর্কবার্তা হবে। ছাত্রদের বিরুদ্বে দায়ের করা সকল মিথ্যা -হয়রানি মামলা প্রত্যাহারেও অনড় থাকতে হবে।
৩.কর্মসূচির ধারাবাহিকতা : – আন্দোলন একটি যৌক্তিক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে মাত্র। এখনো অর্জন চূড়ান্ত হয়নি। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ” তাহলে কোটা একেবারেই বাদ ” – এমন উক্তি ভিন্ন বার্তা বহন করে। কর্মসচির ধারাবাহিকতা ও কঠোরতাই সকল কুটকৌশলের একমাত্র সমাধান।
৪. সার্বজনীন ঐক্য ও সমর্থন : – চলমান আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে। সকল শ্রেণী ও পেশাজীবীর সমর্থন ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
জাতির আগামী দিনের কর্নধার ছাত্র সমাজ নিজেদের রক্ত – ত্যাগ দিয়ে এই কোটা – সংস্কার আন্দোলন গড়ে তুলেছে।এর ইতিবাচক দিক হচ্ছে – তারা কোন রাজনৈতিক দল বা নেতার অপেক্ষায় থাকেনি। জাতীয় এ ক্রান্তি লগ্নে এ আন্দোলনের চূড়ান্ত সাফল্য একান্ত অপরিহার্য। তাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সকল দেশপ্রেমিক – সামাজিক -রাজনৈতিক প্রতিষ্টানের স্বতঃস্ফর্ত কার্যকর ভূমিকা কাম্য ।
sirajulislamshaheen@yahoo.com ; 15/04/2018, 01pm. sunday.

 

 

 

 

 

 

কোটা -সংস্কার আন্দোলন : প্রয়োজন সতর্কতা ,ধারাবাহিক কর্মসূচি ও সার্বজনীন অংশগ্রহণ।
——- সিরাজুল ইসলাম শাহীন

ছাত্রদের কোটা -সংস্কার আন্দোলনের সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত। দাবীর যৌক্তিকতা ,আন্দোলনকারীদের দৃঢ়তা , গুলি – হামলা- হুমকি -ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সফলতা এবং হীন রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের ঊর্ধ্বে থাকায় অধিকার আদায়ের ইতিহাসে এটি এখন নিঃসন্দেহে মাইলস্টোন। কিন্তু সতর্ক অবস্থানের সামান্য ব্যাত্যয় হলে অর্জনের খাতায় শুধু শূন্যই নয় – ফ্যাসিবাদের হিংস্রতায় নতুন আরেক ট্রাজেডি ঘটে যেতে পারে। কতিপয় বিষয় তাই অতীব গুরুত্বের সাথে নেয়া প্রয়োজন : —
১. ছাত্রলীগ নেত্রী ‘এশা ‘ প্রসঙ্গ : – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগ সভানেত্রী ইশরাত জাহান এশা দলীয় পদ এবং ঢাবির ছাত্রত্ব দ্রুততার সাথে ফিরে পেয়েছেন। তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর অশ্রু, দলকানাদের মায়াকান্না, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি-সেক্রেটারী সহ নেতা-নেত্রীদের মাল্যদান আর ফটোসেশনে হিরো বানানোর আয়োজন চূড়ান্ত প্রায়। অথচ সেদিন রাতে ছাত্রীদের টর্চারকালীন এশা’র রুদ্র-মূর্তির তর্জন-গর্জন -অশ্লীল শব্দে ভরপুর দীর্ঘ অডিও ক্লিপ , ভিসি ও প্রক্টর মহোদয়ের সরেজমিন তদন্ত পরবর্তী বক্তব্য ,নির্যাতিত ছাত্রীদের আর্তচিৎকার ও রক্তাক্ত ফুটেজ , ঘটনা পরবর্তী উত্তাল পরিস্তিতির বিস্তারিত বিবরণ অনলাইনে ভাইরাল হয়ে আছে। প্রকৃত সত্য দিবালোকের মত সকলের কাছে স্পষ্ট থাকার পরও মিথ্যা নাটক সাজিয়ে অভ্যস্ত আওয়ামী মহল স্ক্রিপ্ট পাল্টিয়ে দেয়ার অভিযানে নেমে পড়েছে। এতে তারা এতই বেপরোয়া যে হলের ফ্লোরে থাকা নিপীড়িত ছাত্রীদের রক্তের দাগ শুকানোর সময়টুকুও দেয় নি। কারন তাদের রয়েছে সুনির্দিষ্ট টার্গেট – এ যাত্রায় সফল হতে পারলে আন্দোলনের মূল সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই এর টুটি চেপে ধরতে পারবে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে যে কোন ছাড় দেয়া হবে আত্মঘাতী । সন্ত্রাসী নেত্রী এশা সহ সকল হামলাকারী – হুমকিদাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দুর্বার আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে হবে। পল্টিবাজ প্রশাসন – শিক্ষক -নেতা -নেত্রীদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করতে হবে।
২. অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তা প্রসঙ্গ : – এ সরকারের চরম বেপরোয়া আচরণের পিছনে রয়েছে অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তাদের বাড়াবাড়ি। এই আন্দোলনেও এর নিদর্শন স্পষ্ঠ। ” এই, একদম খাইয়া ফালামু ” – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জনৈক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাকে এমন জঘন্য ভাষায় ধমক দিতে দেখা যায়। কুখ্যাত পাকিস্তান আমলেও যা ছিল অবিশ্বাস্য। এই পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হতে হবে। এটি সংশ্লিষ্টদের জন্য সতর্কবার্তা হবে। ছাত্রদের বিরুদ্বে দায়ের করা সকল মিথ্যা -হয়রানি মামলা প্রত্যাহারেও অনড় থাকতে হবে।
৩.কর্মসূচির ধারাবাহিকতা : – আন্দোলন একটি যৌক্তিক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে মাত্র। এখনো অর্জন চূড়ান্ত হয়নি। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ” তাহলে কোটা একেবারেই বাদ ” – এমন উক্তি ভিন্ন বার্তা বহন করে। কর্মসচির ধারাবাহিকতা ও কঠোরতাই সকল কুটকৌশলের একমাত্র সমাধান।
৪. সার্বজনীন ঐক্য ও সমর্থন : – চলমান আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে। সকল শ্রেণী ও পেশাজীবীর সমর্থন ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
জাতির আগামী দিনের কর্নধার ছাত্র সমাজ নিজেদের রক্ত – ত্যাগ দিয়ে এই কোটা – সংস্কার আন্দোলন গড়ে তুলেছে।এর ইতিবাচক দিক হচ্ছে – তারা কোন রাজনৈতিক দল বা নেতার অপেক্ষায় থাকেনি। জাতীয় এ ক্রান্তি লগ্নে এ আন্দোলনের চূড়ান্ত সাফল্য একান্ত অপরিহার্য। তাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সকল দেশপ্রেমিক – সামাজিক -রাজনৈতিক প্রতিষ্টানের স্বতঃস্ফর্ত কার্যকর ভূমিকা কাম্য ।
ংরৎধলঁষরংষধসংযধযববহ@ুধযড়ড়.পড়স ; ১৫/০৪/২০১৮, ০১ঢ়স. ংঁহফধু.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here