ইমরান এইচ সরকার আটকের ঘটনা ও ফিরে দেখা শাহবাগ

0
345

অলিউল্লাহ নোমান
তথাকথিত গণজাগরণ মঞ্চের ইমরান এইচ সরকারকে আজ শাহবাগ থেকে আটকের পর কয়েকটি বিষয় আমাকে নাড়া দেয়। এই ইমরানকে নিয়েই তো জাতীয় সংসদে দাড়িয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা কইছিলেন দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী ওরা। শুধু আওয়ামী নেতারাই নন, খোদ দখলদার অমাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে দাড়িয়ে এক বক্তৃতায় কইছিলেন, আমি এখানে আছি। তবে মনটা পড়ে আছে শাহবাগে। মানে ইমরানের টানে মন তখন শাহবাগ শাহবাগ করছিল দখলদার সরকারের অমাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। এক মন্ত্রী তো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মেয়েকে বিয়েই দিয়ে আত্মীয়তাও করেছিলেন কথিত দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের এই বীরের সাথে।

আওয়ামী নেতাদের বাইরে ইন্ডিয়ানদেরও প্রেমের টান ছিল শাহবাগের প্রতি। কথিত গণজাগরণ মঞ্চের ৫ স্থরের নিরাপত্তা বেষ্টিত আন্দোলন তখনো চলমান। সে সময় বাংলাদেশ সফর করেছিলেন ইন্ডিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মূখার্জি। তখন প্রণব বাবু কইছিলেন আমারও ইচ্ছা করছে ওখানে (শাহবাগে) যাইতে। কিন্তু সময়ের অভাবে পারছি না। তবে একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন বার্তার মাধ্যমে। ইন্ডিয়ান হাই কমিশন তো রীতিমত মনিটরিং সেল খুলেছিলেন শাহবাগে।

বিএনপিও অফিসিয়ালি গণজাগরণ মঞ্চে উঠেনি। তবে শুরুর দিকে মঞ্চে উঠে উঠে অবস্থায় ছিল দলটি। এই যখন অবস্থা তখন বিকল্প সরকার প্রধান হিসাবে যেন দায়িত্ব পালন করছিলেন ইমরান এইচ।

ইরমানের নির্দেশেই জাতীয় পতাকা ইঠেছে আর নেমেছে। সারা দেশের স্কুলের ক্ষুদে ছেলে মেয়েদের রাস্তায় দাড় করানোর নির্দেশ জারি হল শাহবাগ থেকে। তাই হয়েছে। সব স্কুলের ক্ষুদে বাচ্চাদের মুখে বলানো হয়েছে ফাঁসি চাই। এই তো ছিল ইমরানের নির্দেশ। সচিবালয়ের প্রশাসনিক কর্তারাও বসে থাকেননি ইমরানের নির্দেশ জারির পর। রাস্তায় এসেছেন দাড়িয়ে থেকে নির্দেশ পালন করতে। সংসদ সদস্যরাও এসেছেন একই কাতারে। তখন যেন মনে হয়েছিল শাহবাগই হচ্ছে সরকারের কেন্দ্রবিন্দ্।ু শাহবাগ থেকে যা নির্দেশ হয় সবাইকে সেটাই পালন করতে হয়েছে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারী থেকে মে পর্যন্ত। হায়রে শাহবাগ!

একজন বেসরকারি ব্যক্তির নির্দেশে রসকারি ব্যক্তিদের জাতীয় পতাকা উঠানো আর নামানো। স্কুলের ক্ষুদে ছেলে মেয়েদের রাস্তায় এনে জাতীয় পাতাকা হাতে জাতীয় সংগীত গাওয়ানো। এই নির্দেশ যিনি শাহবাগ থেকে দিয়েছেন এবং যারা পালন করেছেন তারা যে রাষ্ট্রদ্রোহী কাজে লিপ্ত হয়েছিলেন সেটা পরীক্ষা নিরীক্ষার সময় অবশ্য এখনো আসেনি। ফ্যাসিবাদী হুঙ্কার আর রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকান্ডের হিসাবও একদিন তাদের কড়ায় গন্ডায় দিতে হতে পারে এই মানচিত্রের ভেতরেই।

ইমরানের জন্য ছিল ৫ স্থরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সাবেক শেরাটন বর্তমান রুপসি বাংলা হোটেলে তাঁর জন্য সার্বক্ষণিক বিশেষ রুমের ব্যবস্থা! বিশেষ রুমে ছিল চিত্ত বিনোদনের জন্য নানা কিসিমের আয়োজন।
ঢাকা শাহবাগ মোড়ে পিজি হাসপাতালও ছিল ইমরানের দখলে তখন। যেটাকে এখন কওয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। ওই মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছিলেন ডা. প্রাণ গোপাল। তিনি ছিলেন অমাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক কান চিকিৎসক। প্রাণ গোপাল ছিলেন ইমরানের মূল উপদেস্টাদের একজন।

কথিত গণজাগরণ মঞ্চের এই আয়োজেনে কারা ছিলেন নেপথ্যে! এবিষয়টি অবশ্যই তখনই ইন্ডিয়ান পত্রিকা গুলোতে পরিস্কার করা হয়েছিল। আনন্দবাজার, পাক্ষিক দেশ থেকে শুরু করে ইন্ডিয়ান বিভিন্ন মিডিয়ায় তখনই উঠে এসেছিল বাংলাদেশের ইন্ডিয়ান হাইকমিশনের বিশেষ ভুমিকার কথা। ইমরানদের পেছনের শক্তি যে তারাই ছিলেন তখন সেটা বলে দিয়েছিল ইন্ডিয়ান পত্র পত্রিকা।

সেই ইমরানকে কেন এখন রাস্তায় নামতে দেওয়া হচ্ছে না? বিরিয়ানির বদলে, নিরাপত্তার বদলে বরং দেখা গেল র‌্যাব লাঠি হাতে তাড়া করে বেড়াচ্ছে শাহবাগে ইমরানের অনুসারিদের। টেনে হেচড়ে সাদা মাইক্রোতে উঠানো হচ্ছে ইমরানকে।

ফ্যাসিবাদী দানব সরকারের সহায়ক শক্তি ছিলেন ইমরান এইচ সরকাররা তখন। শহবাগ থেকেও এই ইমরানরাই ফ্যাসিবাদী হুঙ্কারও কম ছোড়েননি। কেন-ই বা সরকার তাদের থেকে এখন মুখ ফিরিয়ে নিলেন! সরকারের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে, নাকি মূল প্রভুদের কাছে প্রয়োজনীয়তা হারিয়েছেন তারা?

বিচারের বদলে ফাঁসির উম্মাদনা মত্ত ছিল এই শাহবাগ। বিচার বিভাগের সহায়তায় রাষ্ট্রীয় ধুমধাম আয়োজনে রাজনৈতিক নেতাদের খুনের পর উল্লাস আর মিষ্টি বিতরণের সেই দৃশ্য গুলো এখন চোখে ভাসে। রাষ্ট্রীয় আয়োজনে খুনের নেশায় উম্মত ইমরান এই সরকারদের কম উস্কানি দেননি মিডিয়া। ইন্ডিয়ান পোষা মিডিয়া গুলো দিনের পর দিন লাইভ প্রচার করেছে ফাঁসি চাই শ্লোগান। পত্রিকা গুলোর ছিল প্রতিদিন চার পাতার রঙ্গিন আয়োজন। সবাই যেন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় খুনের নেশায় ছিলেন মাতোয়ারা। বিচারের বদলে ফাঁসি ছিল তাদের দাবী।

পুরো দেশ যখন শাহবাগের ফ্যাসিবাদী শ্লোগানের নিয়ন্ত্রণে তখন কিন্তু বসে থাকেনি দৈনিক আমার দেশ। ইমরান এইচ সরকারদের মুখোশ একে একে উম্মোচন করেছিল পত্রিকাটি। দৈনিক আমার দেশ তখন শিরোনাম করেছিল- শাহবাগে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনী। একে একে উম্মোচন করেছিল তথাকথিত দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের বীরদের চরিত্র। তাইতো ইমরান এইচ সরকাররা দৈনিক আমার দেশ বন্ধ এবং সম্পাদক শ্রদ্ধেয় মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের জন্য লাঠি মিছিলও বের করেছিলেন শাহবাগ থেকে।

ইমরান এইচ সরকার গ্রেফতারের ভিডিও চিত্রটি এখানে দেখে নিতে পারেন। এই ভিডিও চিত্রটি ইমরানদের উস্কানিদাতা একটি পত্রিকা থেকে নেওয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here