পিনাকী ভট্রচার্য্য কোথায়, জানতে চায় পিতা

0
43

 

আর বিএন রিপোর্ট, ঢাকা

ডা. পিনাকী ভট্রাচার্য্যকে খোজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই তাঁর বাবা ছেলের খোজ নিতে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। পিনাকী ভট্রাচার্য্য সম্প্রতি স্বাধীন মত প্রকাশের পক্ষে কথা বলছিলেন। সরকারের ফ্যাসিবাদি চরিত্রের বিরুদ্ধে এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে তিনি অনে গুলো লেখাও লিখেন। কিন্তু সম্প্রতি তাঁকে খোজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর পিতার বর্ণনা অনুযায়ী সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই থেকে তাঁকে ফোন করে তাদের অফিসে যেতে বলা হয়েছিল। তিনি না গিয়ে বরং তাদেরকে কথা বলতে চাইলে তাঁর অফিসে আসতে বলা হয়। নিচে পিনাকী ভট্রাচার্য্যরে পিতার বিবৃতি হুবহু দেওয়া হল।

—————প্রেস বিজ্ঞপ্তি —————

ডা: পিনাকী ভট্টাচার্যের পরিবারের পক্ষ থেকে তার পিতা প্রবীণ শিক্ষক শ্যামল ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের জন্য আজ ১১ আগস্ট ২০১৮ শনিবার নিম্নলিখিত বিবৃতি প্রদান করেছেন।

গত ৫ অগাস্ট বিকেল পাঁচটায়, সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর পরিচয় দিয়ে জনৈক মেজর ফারহান ফোন করে খিলক্ষেতস্থ গোয়েন্দা সদর দফতরে গিয়ে দেখা করতে বলেন ডা: পিনাকী ভট্টাচার্যকে। জবাবে পিনাকী বলেন, আলোচনা করতে তার কোনো সমস্যা নেই, তিনি স্বজ্ঞানে কোন অন্যায় কিংবা বেআইনি কাজ করেন না, তার কোন ভয় নেই। তিনি প্রস্তাব করেন, আলোচনা করতে চাইলে কথিত সেই মেজর ফারহান নিজেই যেন তার ব্যাবসায়িক অফিসে আসেন। তিনি তার অফিসে বসেই কথা বলতে চান।

এর অল্প কিছুক্ষণ পরে আবারো ফোন বাজে, তাকে পুনরায় ডিজিএফআই-এর দফতরে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়।

আমরা যতদূর জানতে পারি, তেমন পরিস্থিতিতে এই ধরনের বেআইনি চাপ প্রয়োগ ও হুমকির মুখে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ডা: পিনাকী ভট্টাচার্য অফিস থেকে বেরিয়ে সম্ভবত আত্মগোপনে চলে যায়। তারপর থেকে পরিবারের কেউ তার সাথে এখনো পর্যন্ত যোগাযোগ করতে পারেনি। তিনি কোথায় আছেন, কেমন আছেন এর কোন হদিস আমাদের কাছে নেই!

পরের দিন ৬ অগাস্ট, ডিজিএফআই-এর পরিচয় দিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তার ব্যবসায়িক অফিসে এবং বাসায় খুঁজে আসে। কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া গোয়েন্দা সংস্থার নামে এ ধরনের বেআইনি তৎপরতায় পরিবারের সকল সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব শংকিত এবং তার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা জানি না সে কোথায় আছে, কতটুকু নিরাপদ আছে।

আমি এবং আমার পরিবার বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামে সবসময়ই সম্পৃক্ত ছিলাম। পিনাকী নিজেও নব্বইয়ের ছাত্র আন্দোলনের রাজপথের নেতা। গ্রেফতার ও পুলিশি নির্যাতন মোকাবেলা করে নব্বইয়ে জেনারেল এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গৌরবজনক লড়াইয়ে তারাই বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল।

আমাদের পরিবার সেই পাকিস্তান আমল থেকেই একটি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় লড়াইয়ে সব সময় সক্রিয় থেকেছে, অংশ নিয়েছে। পাকিস্তান আমলেও আমাদের পুরো পরিবারের উপরে অবর্ণনীয় পুলিশি নির্যাতন হয়েছিলো। আমার ভাইদের জীবনের বড় অংশ জেলে কেটেছে। এখানে উল্লেখ্য যে, রাজশাহীর খাপড়া ওয়ার্ডে কমিউনিস্ট বন্দিদের উপর গুলি চালালে সেখানে যারা গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন, সেই বীরদের একজন ছিলেন আমার বড় ভাই। আমার ছেলে ডা: পিনাকী ভট্টাচার্য একজন সমাজ ও রাজনীতি সচেতন নাগরিক। দেশের অন্য সকল বিবেকবান মানুষের মতোই সে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলে, লেখালেখি করে।”

তার সকল কর্মকাণ্ড ও লেখালেখি, সব কিছুই সে প্রকাশ্যে করে থাকে। সোশাল মিডিয়া থেকে স্বচ্ছ ও প্রকাশ্য আর কি কোন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক তৎপরতার প্লাটফর্ম আছে? এমন প্রকাশ্য কাজের মাধ্যমে ডা: পিনাকী ভট্টাচার্য দেশের কোন আইন লংঘন করেছেন বলে আমরা মনে করি না। তার পেছনে গোয়েন্দা বাহিনী লেলিয়ে দেয়ার কোন যুক্তিও আমরা খুঁজে পাই না!

দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা জানতে চাই, কেন তার পিছু ধাওয়া করা হচ্ছে? ডিজিএফআই-এর নামে খুঁজতে আসা এই লোকগুলো আসলে কারা? গুম-খুনের এই ভয়াবহ সময়ে তাদের কি অন্য কোনো ভয়ংকর উদ্দেশ্য রয়েছে? একজন পিতা, দেশের আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একজন নাগরিক এবং প্রবীণ সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি ও আমাদের পুরো পরিবার আজ যে আশংকা, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় ভূগছি, তা থেকে আমাদেরকে নিষ্কৃতি দিন।”

বার্তা প্রেরক;

(শ্যামল ভট্টাচার্য)

PRESS BRIEFING

On behalf of the family of Dr Pinaki Bhattacharya, this statement is from his father Shyamal Bhattacharya…
“On August 5 one Major Farhan called up Pinaki Bhattacharya (PB) asking him to come down to his office. PB said he would be happy to meet and talk to him. PB also added that he was a law-abiding citizen, had never indulged in any wrong act and he was not afraid to meet him. He requested Maj Farhan to come down to his office for the meeting. Some minutes later, the phone call came again asking PB to come down to the DGFI headquarters immediately.”

“As far as we know, the illegal pressure from the DGFI to go to its headquarters made him very anxious and he began worrying about his physical safety. Then he left his office and remains untraced since then. We have not been able to contact him since then.”

“On August 6 some people came to his office and residence in search of him. They said they were from DGFI. They did not carry any warrant. Why will the leading intelligence agency hunt him in such illegal way when no specific charge has been labelled against him (by any agency)? All members of our family, relatives and his friends are extremely worried about him. We do not know where he is and if he is safe.”

“My family members and I were an organiser of freedom fight. PB too was a student movement leader in 1990s………..”

“……………….”
“……………………”

“My son PB is a social and politics-conscious citizen. He is a conscientious man fighting for justice and the rights of other citizens. He openly writes in the social media which is the most transparent and open platform political and cultural activities. We do not believe he has done anything which is wrong or illegal in the eyes of the law of the country. Why is the government using the intelligence agency to harass him this way?

“I would like to ask our Prime Minister why is PB being hounded?…..In the country enforced disappearance and extrajudicial killings are rampant. Do the people who are searching for him have some sinister plan? I am an old father. I am very anxious about my son’s fate……I hope the government will help come this period of fear, anxiety and uncertainty come to an end.”

(Shyamal Bhattacharya)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here