সাগরে ভাসছে যাত্রীদের জিনিসপত্র, মেলেনি লাশ

0
11

আরবিএন রিপোর্ট

ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা থেকে পাংকাল পিনাংয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা বিধ্বস্ত বিমানটির ১৮৮ জন আরোহীর মধ্যে এখনও কাউকে উদ্ধার করা যায়নি। লায়ন এয়ারের জেটি-৬১০ ফ্লাইটটি উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মাথায় সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির উদ্ধারকর্মীরা। ঘটনাস্থল থেকে বিমান যাত্রীদের বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আশেপাশের এলাকায় এসব সামগ্রী ছড়িয়ে পড়ার খবরও পাওয়া গেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সমুদ্রের ২০ থেকে ৩০ মিটার গভীরে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।

এক টুইটার বার্তায় ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এজেন্সি জানিয়েছে, যাত্রীদের বিভিন্ন ব্যবহার্য সামগ্রী সাগরে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্সও রয়েছে। সংস্থার প্রধান মুহাম্মদ সাইয়াগু বলেছেন, এই ঘটনায় কেউ জীবিত আছে কিনা আমরা নিশ্চিত নই। আশা করছি, প্রার্থনা করছি, কিন্তু নিশ্চিত না।

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান সুতপো পুরহো নুগরোহো যাত্রীদের উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন সামগ্রীর ছবি টুইট করেছেন। তার শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, পূর্ব জাকার্তায় উদ্ধারকাজে নিয়োজিত একটি নৌকার পাশে যাত্রীদের ব্যবহার্য সামগ্রী ভাসতে দেখা গেছে। এসব সামগ্রী তেলে পিচ্ছিল হয়ে পড়তেও দেখা গেছে।

এছাড়া রাষ্ট্রায়াত্ব জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পারতামিনার তেল শোধনাগারের উপকূলেও যাত্রীদের বিভিন্ন ব্যবহার্য সামগ্রী পড়ে থাকতে দেখা গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা।

লায়ন এয়ার ইন্দোনেশিয়ায় স্বল্প বাজেটের বিমান পরিবহন সংস্থা হিসেবে পরিচিত। দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত  বিমানটি বোয়িং ৭৩৭ মডেলের বলে জানা গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বিধ্বস্ত  বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানটি নতুন ধরনের বিমান।

লায়ন এয়ারের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি ২০১৮ সালেই নির্মিত আর এবছরের ১৫ আগস্ট থেকে ফ্লাইট পরিচালনার কাজে যুক্ত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এজেন্সির মুখপাত্র ইউসুফ লতিফ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কম্পাসকে পাংকাল পিনাংয়ের সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ কার্যালয়ের প্রধান জানিয়েছেন, জাকার্তা থেকে সকাল ৬টা ২০ মিনিটে উড্ডয়নের ১৩ মিনিটের মাথায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে বিমানটির পাইলট জাকার্তা বিমানবন্দরে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন।

এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানটিতে এক নবজাতক ও দুই শিশুসহ ১৭৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। আরও ছিলেন দুই পাইলট ও পাঁচ কেবিন ক্রু। তবে বিমানটির আরোহীর সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্যও রয়েছে। বিমানটির আরোহীদের মধ্যে ২০ জন ইন্দোনেশিয়ার অর্থ মন্ত্রনালয়ের কর্মী ছিলেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নুফরানসা ভিরা শক্তি জানিয়েছেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মীরা পাংকাল পিনাংয়ে চাকরি করতেন কিন্তু সপ্তাহের ছুটি কাটাতে জাকার্তায় এসেছিলেন। নিয়মিত তারা এই ফ্লাইটে যাতায়াত করতেন।

লায়ন এয়ারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটির পাইলট ও কো-পাইলটের ১১ হাজার ঘণ্টারও বেশি উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা রয়েছে। এছাড়া বিমানটিতে শিক্ষানবীশ ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here