দেশ কীভাবে এগোবে তা নির্ধারণ করবে ঐক্যফ্রন্ট: শামসুজ্জামান দুদু

0
9

আরবিএন রিপোর্ট

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, সাত নভেম্বর দ্বিতীয় দফা সংলাপের পর দেশ কীভাবে এগোবে, তা নির্ধারণ করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদের এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

দুদু বলেন, ‘আপনাদের (আওয়ামী লীগ) ভূমিকার ওপরে নির্ভর করছে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে কিনা। আন্দোলন এখনও শুরু হয় নাই। ৭ নভেম্বরের আলোচনার পর দেশ কীভাবে চলবে, তা নির্ধারণ করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আর পরশু দিনের পর গণতন্ত্রে কীভাবে ফেরবো, তা আমরা নির্ধারণ করবো।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদিন সংবিধানের কথা বলেন, কিন্তু সংবিধানে উল্লেখ করা বাক স্বাধীনতা কোথায়, প্রশ্ন রেখে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আপনি তো গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দাবিদার। সংবিধানের কথা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যতবার বলেন, অন্য কেউ এতবার বলে না। সংবিধানে আমার বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে,লেখার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে, সভা-সমাবেশে নিশ্চিত করা হয়েছে, আপনি তো সেটা মানেন না। ডিজিটাল নিরাপত্তা নামের যে আইন করেছেন, তা সংবিধানে সাংঘর্ষিক। আপনি তা পাশ করিয়েছেন। তাহলে সংবিধান এখন কোথায়?’

কারাবন্দিদের মুক্তি দাবি করে দুদু বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষকের পরিবারকে আজ আওয়ামী লীগ শাসনামলে নিশ্চিহ্ন করার মহাপরিকল্পনা চলছে। সারা দেশে নব্বই হাজারের বেশি যে মামলা হয়েছে, তার আসামি প্রায় ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ লাখ, যারা জেলে রয়েছেন— তাদেরকে মুক্তি দিন।’

আসামির কাঠগড়ায় শেখ হাসিনাকে দাঁড় করানো হবে, এমন হুমকি দিয়ে দুদু বলেন, ‘ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ পাঁচ থেকে ছয় শতাধিক নেতাকর্মী গুম অথবা নিখোঁজ। এখন আপনি যদি মনে করেন আপানার শাসনকালের পরে আর কোনও শাসনকাল নাই, সেটা ভুল করবেন। শাসনকাল যখন পরিবর্তন হবে, তখন তো আমরা আমাদের নেতাকর্মী যারা গুম ও খুন হয়েছে, তাদেরকে ফেরত চাইবো। ফেরত যদি না দিতে পারেন, আসামির কাঠগড়ায় আপনাকে দাঁড়াতে হবে।’

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের ওপরে হামলার বিষয়ে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘গ্রেপ্তার করেছেন যেটি জামিনযোগ্য মামলা, সেটি জামিন তো দেন নাই বরং তাকে রংপুরে নিয়ে আপনার কর্মী বাহিনী লেলিয়ে দিয়েছেন। তার (ব্যারিস্টার মইনুল) ওপর বন্দি অবস্থায় আক্রমণ করা হয়েছে। এগুলো ভালো দৃষ্টান্ত না। এগুলো গণতান্ত্রিক শাসনের সঙ্গে যায় না। এগুলো স্বৈরশাসকের কাজ। আপনি নিজেকে গণতান্ত্রিক দাবি করে স্বৈরশাসকের কাজ করবেন, দুটি এক সঙ্গে যায় না।’

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি এম গিয়াস উদ্দিন খোকন। এছাড়া, সভায় উপস্থিত ছিলেন— বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, সুকুমার বড়ুয়া, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here