মুসলিম বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস

0
114

যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ স্কলার্স থেকে বেরোল মাহমুদুর রহমানের নতুন বই

সৈয়দ আবদাল আহমদ

দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের নতুন বই ব্রিটেনের ক্যামব্রিজ স্কলার পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত হয়েছে। বইটির নাম ‘দ্য পলিটিক্যাল হিস্ট্রি অব মুসলিম বেঙ্গল: অ্যান অনফিনিশড ব্যাটল অব ফেইথ।’ বাংলায় যার অর্থÑ‘মুসলিম বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস: ধর্মবিশ্বাসের একটি অসমাপ্ত লড়াই। ’ ইংরেজীতে লেখা বইটি প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত একটি প্রকাশনী সংস্থা ‘ক্যামব্রীজ স্কলার্স পাবলিশার্স’। দ্বিতীয়বার দ্বীর্ঘ সাড়ে চার বছরের বেশি সময় কারাগারে তিনি এই বিষয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা করেছেন।

বইটিতে ‘বাংলা’ নামের উৎপত্তির বর্ণনা থেকে এ ভূখ-ের এক হাজার বছরের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। ৪১২ পৃষ্ঠার এই বইয়ে ১২টি অধ্যায় রয়েছে। বইটির প্রথম অধ্যায়ের শিরোনাম ‘ পূর্ব বাংলায় ইসলামের আবির্ভাব: গত সহ¯্রাব্দের ইতিহাস’। দ্বিতীয় অধ্যায়ে রয়েছে ‘ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক দখলদারিত্ব এবং মুসলিমদের অধীনস্ততা। তৃতীয় অধ্যায়ে পাকিস্তানের জন্ম এবং বাংলা বিভাগ। চতুর্থ অধ্যায়ে মুসলিম পরিচিতির ওপরে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিজয়, পঞ্চম অধ্যায়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ষষ্ঠ অধ্যায়ে স্বাধীন বাংলাদেশে মুজিবের শাসন ও স্বৈরতন্ত্র। সপ্তম অধ্যায়ে রয়েছে মুসলিম পরিচয়ের পুনর্জাগরণ : বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের উত্থান, অষ্টম অধ্যায়ে রাষ্ট্রধর্মের রাজনীতি: এরশাদ শাসনের হারানো দশক। নবম অধ্যায়ে সংসদীয় রাজনীতিতে ইসলামী সমীকরণ। দশম অধ্যায়ে ওয়ান ইলেভেনের ট্রোজান হর্স। দশম অধ্যায়ে কর্তৃত্ববাদী শাসন, দ্বাদশ অধ্যায়ে রয়েছে একটি অসমাপ্ত ধর্মবিশ্বাসের লড়াই।

এছাড়া বইটির পরিশিষ্টে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দলিল স্থান পেয়েছে। যেমন ১৯৪৬ সালের ক্যাবেনিট মিশন পরিকল্পনা, ১৯৬৬ সালের আওয়ামী লীগের ছয় দফা, ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগরে স্বাধীনতার ঘোষণা, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের দলিল। ১৯৭১ সালে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অনুদ্ধারিত ভাষণ, ১৯৭২ সালের ১৯ মার্চ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার মৈত্রী, সহযোগিতা ও শান্তি চুক্তি। উপমহাদেশে সম্পর্ক স্বাভাবিক করণের লক্ষ্যে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৭৪ সালের ৯ এপ্রিল সাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তি।

বাংলাদেশের বিশেষ করে মুসলিম বাংলার ইতিহাসভিত্তিক গবেষণাধর্মী এই বই কেন লিখলেন মাহমুদুর রহমান? তিনি নিজেই এর কারণ উল্লেখ করেছেন। বইটির ভূমিকায় তিনি লিখেছেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক হলো ৯০ ভাগ বাঙালি মুসলিম অধ্যুষিত দেশটিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিচয় নির্ধারণ ও বাংলা ভাষার উন্নয়নে মুসলিম শাসকদের মহান অবদান স্বীকৃতি পায়নি। সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের প্রতি কেন এই উদাসীনতা? এটা কী দীর্ঘ সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ফল নাকি অজ্ঞতা? নিজ শিকড় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ অন্ধ কোনো জাতি কী রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে স্বাধীন থাকতে পারে? আমার এই বই লেখার মুখ্য উদ্দেশ্য এসব প্রশ্নের জবাব অনুসন্ধান।” ল-নে বইটি পাঠকমহলে সাড়া জাগিয়েছে। আমাজন ডটকমে বইটি পাওয়া যাচ্ছে।

ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ও মজাদার তথ্য বইটিতে স্থান পেয়েছে। মাহমুদুর রহমান ‘বাংলা’ নামের উৎপত্তি নিয়ে তার বইয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। মুসলিম সুলতানি ও মোগল আমলে ‘বাঙালাহ’ শব্দ থেকে বাংলা শব্দটি এসেছে। প্রাচীনকালে গঙ্গার তীরবর্তী ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কয়েকটি জেলাকে বলা হতো ‘বঙ্গ’, সংস্কৃতি ভাষায় ‘ভঙ্গ’। ঐতিহাসিকরা সাধারণভাবে একমত যে ফারর্সি শব্দ ‘বাঙালাহ’, পর্তুগিজ শব্দ ‘বেঙালাহ’ অথবা ‘পেঙালা’ থেকে ইংরেজি ‘বেঙ্গল’ শব্দটির উৎপত্তি। তবে সেই সময়কার বাংলা থেকে আজকের বাংলাদেশের আয়তন অনেক বড়।

এদেশের ইসলামের গোড়াপত্তনের ইতিহাস তুলে ধরে মাহমুদুর রহমান লিখেছেন, তুর্কি জেনারেল ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি ১২০৩ সালে রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন। তবে সমগ্র বাংলাকে একই মুসলিম শাসনের অধীনে আনতে প্রায় দেড়শ’ বছর লেগে যায়। সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ চতুর্দশ শতকের মাঝামাঝি সমগ্র বাংলাকে অভিন্ন শাসনে নিয়ে আসেন। বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসন টিকেছিল দুইশ’ বছর। এরপর ষোড়শ’ শতাব্দীতে কিছুদিন শাসন করেন আফগান জেনারেল শের শাহ সুরি। পরে স¤্রাট আকবর শেষ স্বাধীন আফগান শাসককে হটিয়ে এ অঞ্চলকে ‘সুবেহ বাংলায়’ পরিণত করেন। আকবরের ছেলে স¤্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ১৬১১ সালে মোগল জেনারেল ইসলাম খান চিশতী ‘ঢাকা’কে বাংলার রাজধানী করেন।

বাংলায় ইসলামের আগমন সম্পর্কে বইতে বলা হয়, ১২০৩ সালে মুসলিম শাসনের গোড়াপত্তনের আগে ভারতের অন্যান্য অংশ বরেন্দ্র (বর্তমান রাজশাহীসহ উত্তরবঙ্গ), পুন্ড্রু (বগুড়া), সমতট (কুমিল্লা), চন্দ্রদ্বীপ (বরিশাল), হরিকেল (সিলেট) ইত্যাদি নামে পরিচিত ছিল। বঙ্গসহ এসব অঞ্চল এখন আজকের বাংলাদেশের ভৌগলিক সীমানার অন্তর্ভুক্ত। সে সময় রাধা, গৌড়, লখনৌতি, সাতগাঁ, তা¤্রলিপি ও হুগলি নামে যে এলাকা ছিল তা এখন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অংশ।

ইসলামের আগমন সম্পর্কে বইতে বলা হয়, সম্ভবত অষ্টম ও নবম শতাব্দীতে আরব বণিক ও সামদ্রিক পরিব্রাজকদের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় ইসলামের আগমন ঘটে। প্রাচীন নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও আরাকানে ইসলামের প্রচার শুরু হয়। কিছু কিছু শিক্ষাবিদ বিশ্বাস করেন যে, ইসলামের আবির্ভাবের পরপরই চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলে আরব মুসলিমরা বসতি স্থাপন করেছিলেন। পাহাড়পুর (বগুড়া) ও ময়নামতিতে (কুমিল্লা) প্রত্মতাত্ত্বিক খননে আরবীয় এবং বিখ্যাত খলিফা হারুন-উর-রশীদের আমলের (৭৮৬-৮০৯ খ্রিস্টাব্দ) মুদ্রাও পাওয়া গেছে।

এতে আরো উল্লেখ করা হয়, ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুতে এ অঞ্চলে রাজনৈতিক ইসলামের আগমন ঘটে। এরফলে পারস্য, মধ্য এশিয়া ও আরব দেশগুলো থেকে সুফিসাধকসহ অনেক মুসলিম অভিবাসীর আগমনের পথ সুগম হয়। পূর্ব বাংলায় ইসলামের এই মহাকাব্যিক উত্থানে বিস্মিত হয়েছেন বিশ্বের ঐতিহাসিক ও গবেষকরা। মুসলিমদের বিজয়ের আগে শাসক ব্রাহ্মণ শ্রেণি বাংলা ভাষাকে নিদারুণ তাচ্ছিল্য করতেন এবং একে চাষাভুষা ও জেলেদের ভাষা বলে বিবেচনা করতেন। আর্য বৈদিক ভাষা হিসেবে তারা শুধু সংস্কৃতি ভাষাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতেন।

বৌদ্ধধর্ম এ অঞ্চলের অত্যন্ত প্রাচীন ধর্ম বলে বইটিতে উল্লেখ করা হয়। মাহমুদুর রহমান লিখেন, গৌতম বুদ্ধ বৌদ্ধধর্মের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পূর্ব বাংলায় এ ধর্ম ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী। পরে এক সময় বৃহত্তর ভারতে ব্রাহ্মণদের ধর্মের কাছে বৌদ্ধধর্ম হার মানে। এটা একটা প্রহেলিকা, যে বিশ্বধর্ম এ অঞ্চলে প্রায় দুই হাজার বছর আধিপত্য বজায় রেখেছিল তা এক সময় কার্যত হারিয়ে গেল। কিছু বৌদ্ধ সাহিত্যে বলা হয়, গৌতম বুদ্ধ খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে তৎকালীন পুুন্ড্রে (বর্তমানে বগুড়া) এসে ছয়মাস অবস্থান করেছিলেন। এই বিশ্বাস যদি সত্য হয় তবে এটা মেনে নিতে হবে যে যীশু খ্রিস্ট্রের জন্মের বহু আগেই পূর্ব বাংলার মানুষ বৌদ্ধধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। অন্যদিকে ঐতিহাসিক দলিল বলছে, এ অঞ্চলে আর্য ও ব্রাহ্মণধর্ম এসেছিল খ্রিস্টীয় তৃতীয় ও চতুর্থ শতাব্দীতে। বখতিয়ার খিলজীর এদেশের আগমনের আগে বৌদ্ধধর্ম একদিকে যেমন ক্ষত্রীয় ও ব্রাহ্মণ সেনা শাসকদের নিপীড়নের শিকার হচ্ছিল, তেমনি তার দার্শনিক ও নৈতিক ক্ষয়ও শুরু হয়েছিল। স্পষ্টই বোঝা যায় যে বাংলায় দুটি ধর্মের মধ্যে দীর্ঘ ঐতিহাসিক লড়াই চলে। শেষ পর্যন্ত বৌদ্ধধর্মকে নৈতিক ও চূড়ান্ত আঘাত হেনে সফল হয় ব্রাহ্মণ্যবাদ।

বর্তমান ক্ষমতাসীনদের রোষানলে পড়ে সম্পাদক মাহমুদুর রহমান দু’দফার প্রায় পাঁচ বছর জেলে বন্দী ছিলেন। প্রথম দফায় জেল থেকে বের হয়ে তিনি লিখিছেলেন ‘ কোনো রক্তচক্ষুই তার কলমকে থামাতে পারবেনা।’ না লেখা থেকে তিনি নিবৃত্ত হননি। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় তিনি নিয়মিত কলাম লিখেছেন। পত্রিকাটিও সরকারের রোষানলে পড়ে এখন বন্ধ রয়েছে। ইতোমধ্যে মাহমুদুর রহমানের বেশ কয়েকটি বই বের হয়েছে এবং পাঠক মহলে সাড়া জাগিয়েছে। বইগুলো হচ্ছে: জেল থেকে জেলে, নবরূপে বাকশাল, ১/১১ থেকে ডিজিটাল, কার মান কখন যায়, জাতির পিতা ও নার্সিসাস সিনড্রোম এবং ফুলবাড়ীর রাজনীতি। ‘মুসলিম বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস’ বইটি তিনি লিখেন কাসিমপুর কারাগারে বন্দী থাকাবস্থায়। দ্বিতীয় দফায় মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের পর, তিনি তখন কাশিমপুর কারাগারে ছিলেন।

মাহমুদুর রহমান লিখেছেন, কারাবন্দি থাকাকালে ২০১৫ সালের শেষের দিকে তার মনে হয়েছিল বাকি জীবনটা বুঝি কারাগারেই কাটাতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিতে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত মূলস্তম্ভ হিসেবে স্থান পাওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশে দুর্ভাগ্যের জন্ম হয়। এরকম একটি বৈরি ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদশের বর্তমান ক্ষমতাসীনদের একজন সুপরিচিত সমালোচকের কারামুক্তির সম্ভাবনা ক্ষীণ। তখনই তিনি বইটি লেখার সিদ্ধান্ত নেন বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু বই লেখার কাজটি ছিল দুরূহ উল্লেখ করে তিনি লিখেন, কারণ কাশিমপুর কারাগারে একটি ছোট লাইব্রেরি থাকলেও সেখান থেকে বিশেষ কোনো লক্ষ্য নিয়ে অধ্যয়নের উপযোগী বই পাওয়া সম্ভব ছিল না। বাংলাদেশে কারাবন্দিরা একাডেমিক উদ্দেশ্যেও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পান না। নেই টাইপ রাইটার। সনাতনি আমলের মত হাতেই লিখতে হয়।” এ অবস্থায় তার বিদূষী স্ত্রী ফিরোজা মাহমুদ এগিয়ে আসেন। তিনি তাকে প্রয়োজনীয় বই এবং রেফারেন্স সামগ্রী সরবরাহ করতে শুরু করেন। তবে সেটাও সহজসাধ্য ছিল না। এক সপ্তাহ পরপর তিনি দেখা করার সুযোগ পেতেন। এর মধ্যে তার নতুন নতুন বইয়ের প্রয়োজন হলেও সেগুলো পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হতো। তবে তার স্ত্রীর ধৈর্য সব প্রতিকুলতা পেরিয়ে বইটি লেখার কাজ সহজ করে দেয়।

ল-ন থেকে প্রকাশিত বইতে মাহমুদুর রহমান লিখেছেন, ‘আমার ৬৩ বছরের জীবন কেটেছে অনেক উত্থান-পতনের মধ্যে, সম্ভবত তা ছিল সমানুপাতে। বাংলাদেশের বর্তমান কর্তৃত্ববাদী ধর্মনিরপেক্ষ সরকার এবং নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনে তাদের পৃষ্ঠপোষকরা আমাকে একজন অনাকাঙ্খিত ইসলামপন্থী হিসেবে বিবেচনা করে। মজার ব্যাপার হলো আমি কোনো ধর্মবেত্তা কিংবা ইসলামী দলের সদস্য নই। বস্তুত আমি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিলাম না। আমি শুধু একজন আধুনিক মুসলিম যিনি ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মনিষ্ঠ। আমি দাড়ি রাখিনি এবং পশ্চিমা পোশাক পছন্দ করি। তবে আমি অবশ্যই আমার ইসলামী ঐতিহ্য নিয়ে গর্বিত এবং সংবিধানে বর্ণিত দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

আমার দেশ পত্রিকায় সাড়া জাগানো স্কাইপ কেলেংকারি প্রকাশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মাহমুদুর রহমান বইতে লিখেছেন, ‘সত্যিই বাংলাদেশ আজ চরম মেরুকরণকৃত এবং আহত একটি জাতি। দেশটি যেন করদরাজ্য। ইকোনমিস্ট পত্রিকা ও আমার দেশে সংশ্লিষ্ট বিচারপতির অন্যায় বিচারের খবর প্রকাশের কারণে তার চাকরি যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। যেমনটা ভাবা হয়েছিল, (মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন) সাঈদীকে তথাকথিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত মৃত্যুদ- দেয়। এতে সারাদেশে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সরকার নজিরবিহীন শক্তি ও সহিংসতার মাধ্যমে তার জবাব দেয়।

মাহমুদুর রহমান লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের কর্তৃত্ববাদী সেক্যুলার শাসকরা আদর্শ দিয়ে আদর্শ মোকাবিলা করতে পছন্দ করেন না, যদিও দেশের সংবিধানে মত প্রকাশের স্বাধীনতার গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে। তারা মুক্ত ও গণতান্ত্রিক দেশের মত প্রাণবন্ত বিতর্কে জড়াতে চায় না। বরং বাংলাদেশের বর্তমান সরকার খুবই সরল ও প্রত্যক্ষ পদ্ধতি প্রয়োগ করে থাকে। তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-, গুম এবং বিচার ছাড়াই ভিন্ন মতাবলম্বীদের অনির্দিষ্টকাল কারাবন্দি করে রাখে। বাংলাদেশে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতি চরমভাবে দমন করা হলেও ওয়াশিংটন ও অন্যান্য পশ্চিমা রাজধানীগুলোর সংশয় প্রশমিত করার জন্য ভারত তার ক্লায়েন্ট সরকারের পক্ষে কাজ করে। পশ্চিমা রাজনীতিকরা ভালো করেই জানেন যে তাদের কৌশলগত ও রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য কোন সময়টাতে চোখ বন্ধ করে রাখতে হয়।

মাহমুদুর রহমান লিখেছেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ একটি নির্মম পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।… তবে এসবে অভ্যস্ত হয়ে পড়া মানে ফ্যাসিবাদী সরকারের নিপীড়নের কাছে আত্মসমর্পণ। ভারত-মার্কিন জোট বাংলাদেশকে একটি অরওয়েলিয়ান রাজ্যে পরিণত করতে চায়। তবে আশা ও সান্তনা না থাকলে জনগণ তো মানুষ হিসেবে বাঁচতে পারে না। হতাশার চক্রে নিমজ্জিত হলে মানুষ তো প্রাণহীন রোবটে পরিণত হয়। এ অবস্থায় আমি আমার আত্মা বাংলাদেশের শয়তানি শক্তির কাছে বিক্রি করিনি। আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি শেষ পর্যন্ত দৃঢ় ঈমানই শ্বাশত পথের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।’

আমাজনে বইটির লিঙ্ক এখানে দেয়া হল। আপনি চাইলে নিজের এক কপি সংগ্রহ করতে পারেন, অথবা নববর্ষের উপহারের জন্য হতে পারে একটি সুন্দর বই। https://www.amazon.co.uk/Political-History-Muslim-Bengal-Unfinished/dp/152751935X/ref=sr_1_1?ie=UTF8&qid=1543921752&sr=8-1&keywords=political+history+of+muslim+bengal

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here