‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ ও ব্যবহৃত প্রতীকের তাৎপর্য কি!

0
215

অলিউল্লাহ নোমান
পহেলা বৈশাখ কয়েক দিন বাকী। বাংলা সনের প্রথম দিন। বছরের প্রথম দিন উদযাপনের প্রস্তুতির খবর ইতোমধ্যেই পত্রিকায় দেখা গেছে। বছরের শুরুটা আনন্দ উল্লাসে পার করার রীতি দুনিয়ার সব দেশেই রয়েছে। ইংরেজী নববর্ষের আগের রাতে বিশাল উৎসবের আয়োজন হয় ইউরোপ আমেরিকা জুড়ে। তাদের রীতি অনুযায়ী এ উৎসব পালিত হয়। বাংলা নববর্ষ উদযাপন হবে। এটাই স্বাভাকি। প্রশ্ন হচ্ছে কোন রীতি অনুযায়ী উৎসব হবে! বাংলাদেশ নামক ভু-খন্ডটি একদা মুসলিম বাংলা হিসাবে পরিচিত ছিল। হিন্দু জমিদারদের অত্যাচার থেকে বাঁচার লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালে মুসলিম ভু-খন্ড হিসাবে স্বাধীনতা লাভ করে। যাতে নিজেদের সংস্কৃতি স্বাধীনভাবে অনুসরণ করতে পারে সেটাই ছিল মূল লক্ষ্য। অন্যের চাপিয়ে দেয়া সংস্কৃতি নয়। আধিপত্যবাদী চানৈক্য সংস্কৃতি চাপিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা যুগে যুগে ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় নানা কৌশলে মঙ্গল শোভাযাত্রা নাজিল হয় এ ভুখন্ডে। তবে এটা মনে রাখতে হবে, বাংলা সন চালু হয়েছিল আরবী মাস ও সনকে অনুসরণ করে।

বাংলা সন চালু হয়েছিল মোগল আমলে। বাংলা ভাষাভাষি মানুষের জন্য এটা গর্বের বিষয়। এ ভাষার মানুষের জন্য একটি নিজস্ব ক্ষণ গণনার সুযোগ তৈরি হয় এর মাধ্যমে। মোগল আমল এই সন চালু হয়েছিল হিসাব সংরক্ষণের সুবিধা বিবেচনা করে। তারপর পার হয়ে গেছে ৫০০ বছরের বেশি। কিন্তু মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রচলন কবে থেকে?

আসুন দেখে নেই তাঁর সংক্ষিপ্ত একটি ইতিহাস। ১৯৮৯ সালের আগে ঢাকার ইতিহাসে মঙ্গল শোভাযাত্রার কোন নজির খুজে পাওয়া যায় না। ১৯৮৯ সালে চালু হয় আনন্দ শোভাযাত্রা নামে একটি র‌্যালি। এর উদ্যোক্তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। এক পর্যায়ে নাম পরিবর্তন করে এটি হয়ে উঠে মাঙ্গল শুভাযাত্রা। এই শুভাযাত্রায় কত গুলো প্রতীক বহন করা হয়। এই প্রতীক গুলোর সংস্কৃতিক গুরুত্বই বা কি! কেন হঠাৎ করে বাংলা সনের প্রথম দিবসে শোভাযাত্রার নামে এই প্রতীক গুলো বহনের সংস্কৃতি চাপিয়ে দেয়া হল। কি অর্থ বহন করে প্রতীক গুলো। যে সংস্কৃতির লড়াই করতে গিয়ে ১৯৪৭ সালে এ অঞ্চলের পূর্বপুরুষরা একটি স্বাধীন আবাস ভুমির তাগিদ অনুভব করেছিলেন, সেটার সাথে কি মিল রয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রার নামে বহন করা প্রতীনে? নাকি সেদিন যারা পরাজিত হয়েছিলেন তারা কৌশলে এ সংস্কৃতি চাপিয়ে দিয়ে আধিপত্যবাদীরা অপসংস্কৃতি চাপিয়ে দিচ্ছেন!

১৯৮৯ সাল থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রায় যেসব প্রতীক বহন করা হয় এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পেচা, বাঘ-সিংহ, ময়ূর, ইদুর, হাঁস, ষাড়, প্রজাপতি, সূর্য ইত্যাদি। নির্দিষ্ট একটি ধর্মে প্রত্যেকটির পৃথক তাৎপর্য রয়েছে। রয়েছে ধর্মীয় গুরুত্ব। সেই ধর্মীয় তাৎপর্য থেকেই প্রতীক গুলো তৈরি করা হয়। মঙ্গল প্রদীপেরও রয়েছে বিশেষ ধর্মীয় তাৎপর্য এবং ঐতিহ্য। এর সাথে মিল রেখেই পহেলা বৈশাখে এই অনুষ্ঠানের নাম রাখা হয়েছে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। এ প্রতীক গুলোকে কেন যতœ করে তৈরি করা হয় সেটারও রয়েছে একটা সংস্কৃতিক গুরুত্ব। ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের কৌশল হিসাবেই বেঁছে নেয়া হয়েছে পহেলা বৈশাখ। যে সংস্কৃতিটা ১৯৮৯ সালের আগে বাংলা সনের সাথে এদেশে কখনোই প্রচলিত ছিল না। এই অপসংস্কৃতির বীজ ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে মাধ্যমে বপন করা হয়। এর আগে পহেলা বৈশাখে খই, উখড়া, মিষ্টি খাওয়ার ঐতিহ্য রয়েছে। সঙ্গে গ্রাম অঞ্চলে বিশেষ মেলা বা বান্নী বসত। এখন ‘শোভাযাত্রার’ বয়স ২০ বছর। এর মাঝে নানা ঢালপালা বিস্তার করেছে। জেলা শহর থেকে উপজেলা শহর পর্যন্ত বিস্তুৃতি লাভ করেছে কথিত ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’।

পহেলা বৈশাকে পান্তা, ইলিশ খাওয়ায় কারো আপত্তি থাকতে পারে না। কারন গরমের দিনে সকাল বেলা কৃষকের প্রিয় খাবার হচ্ছে পান্তা ভাত। পান্তা খেয়ে কৃষক লাঙ্গল কাঁদে ভোরে জমি চাষ দিতে যায়। ইলিশ আমাদের নদীর মাছ। জাতীয় মাছ হিসাবে স্বীকৃত এটি। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে জাতীয় মাছ ও পান্তা ভাত কেউ খেলে তাতে আপত্তি উঠার কিছু নেই। এটা বরং আমাদের সংস্কৃতিকেই ধারন করে। জেলেরা এ উপলক্ষ্যে হলেও ইলিশে বাড়তি মূল্য পায়। পান্তা খেয়ে একদিনের জন্য হলেও অনুভব করতে পারে কৃষক সারা জীবন কিভাবে এ খাবারে অভ্যস্ত হয়ে আছে।

শাড়ি এ অঞ্চলের মেয়েদের পোশাক। ছেলেদের পোশাক পায়জামা পাঞ্জাবী। সুতরাং পহেলা বৈশাখে এ পোশাক পড়ে কেউ রাস্তায় বা পার্কে হেঠে গায়ে ধূলা মাখালে কারো আপত্তি থাকার কিছু নেই। তবে অশালীন কিছু হলে আপত্তি উঠতেই পারে। আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে অশালিনতার সুযোগ কোথায়ও নেই।

নববর্ষ উদযাপনের নামে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রার’ চাপিয়ে দেয়ার মাঝে আপত্তি রয়েছে। আপত্তি রয়েছে ব্যবহৃত প্রতীক গুলো নিয়ে। আপত্তি উঠাই স্বাভাবিক। কারন এই সংস্কৃতি ১৯৮৯ সালের আগে ছিল না। কেন ১৯৮৯ সাল থেকে এ সংস্কৃতি চালু হল, কারা এটার বীজ বপন করেছিলেন সেটা নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। তবে আজকের আলোচনা আমি সীমাবদ্ধ রাখতে চাই শোভাযাত্রায় ব্যবহৃত প্রতীক গুলো নিয়ে। কি অর্থ বহন করে এ প্রতীক গুলো। তাৎপর্যই বা কী?

পেঁচা: হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী ধন সম্পদ ও ঐশ্বর্য্যরে দেবী লক্ষ্মীর বাহন হচ্ছে পেচা। ২০১৩ সালের ৩১ আগষ্ট ইন্ডিয়াপন্থি দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ‘পঞ্চবাহনের পাঁচ কথা’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। প্রবন্ধটি লিখেছেন-সুচিত্রা সরকার। এতে তিনি বর্ণনা করেছেন,-ধন আর ঐশ্বর্যের দেবী লক্ষ্মীর বাহন হচ্ছে পেঁচা। পেঁচা দিনের বেলায় দেখতে পায় না। লোককথা মতে, মনে করা হয় যারা তত্ত্ব বিষয়ে অজ্ঞ, যারা ধনবান, তারা পেচকধর্মী। আপাত দৃষ্টিতে অন্ধ। ধনবান ব্যক্তির মধ্যে এই পেচার বৃত্তটি বর্তমান থাকে। তাই ভাবার্থগত কারনেই বাঙ্গালী লোক বিশ্বাসে পেচাকে লক্ষীর বাহন হিসাবে কল্পনা করা হয়েছে।

সিংহ ও বাঘ: দেবী দূর্গার বাহন হচ্ছে সিংহ ও বাঘ। প্রথম আলোতে প্রকাশিত সূচিত্রা সরকারের বর্ণনা অনুযায়ী পূজায় দূর্গার সাথে সিংহেরও পূজা করা হয়। সিংহ রজোগুণের শক্তির উচ্ছাসের প্রতীক। সিংহ আসুরিকতা ও পাশবিকতা দূর করে দেবীর পূণ্য কাজের সাহায্যকারী হয়ে উঠেছে। সিংহকে মানুষের পাশাবিকতা বিজয়ের প্রতীকও ধরা হয়।

ময়ূর: হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দেব সেনাপতি কার্তিকের বাহন হচ্ছে ময়ূর। সুচিত্রা সরকার তাঁর প্রবন্ধে ময়ূরের তাৎপর্য হিসাবে উল্লেখ করেন-দেবীর আরেক ছেলে কার্তিকের বাহন ময়ূর। কিন্তু এটাও কি মেলানো যায়? কার্তিক দেব সেনাপতি। সৌন্দর্য আর বীর্যের প্রতীক। আর তার বাহন কিনা একটি ময়ূর! লোককাহিনী বলে ভিন্ন কথা। ময়ূর বিশাল বিষধর সাপকে কৌশলে নিহত করে। এটা তার যুদ্ধনৈপুণ্যের পরিচয় দেয়। ময়ূর দলবদ্ধভাবে বাস করে। ময়ূর স্ত্রীদের রক্ষায় সদা সচেষ্ট। ময়ূরের এই বৈশিষ্ট্য গুণের জন্যই কার্তিকের প্রিয় বাহন ময়ূর।

হাঁস: হিন্দু ধর্মীয় প্রথা ও বিশ্বাস অনুযায়ী হাঁস হচ্ছে বিদ্যা দেবীর বাহন। সরস্বাতী বার্ণ আর জ্ঞানের দেবী। তাঁর বাহন হাঁস। হাঁস সিন্দুকের নিকট একটি পবিত্র প্রতীক। শাস্ত্রীয় মতে, দেবী এই উভচর বাহন ব্রাহ্মার শক্তি হিসাবে তাঁর কাছ থেকে পেয়েছিলেন। কিন্তু ব্রহ্মা বা সরস্বতী দেবীর বাহনটি পাখিবিশেষ নয়। বেদ ও উপনিষদে হংস শব্দের অর্থ সূর্য। সূর্যের সৃজনী শক্তির বিগ্রহান্বিত রুপ ব্রহ্মা এবং সূর্যাগ্নির গতিশীল কিরণরুপা ব্রহ্ম-বিষ্ঞু-শিবশক্তি সরস্বতী দেবীর বাহন হয়েছে হংস বা সূর্য।

ইঁদুর: হিন্দু ধর্মীয় দেবতা দূর্গার ছেলে গণেশের বাহন হচ্ছে ইঁদুর বা মুষিক। ইঁদুর মায়া ও অষ্টপাশ ছেদনের প্রতীক। প্রশ্ন জাগতে পারে, ওইটুকু একটা প্রাণী এত বিশাল শরীরের একজনকে কী করে বহন করে! মূলত এখানে ইঁদুরের চরিত্রবৈশিষ্ট্য মুখ্য। এই ছোট্র প্রার্ণী একটু একটু করে আস্ত পর্বতও কাটতে পারে। এটি মূলত ধৈর্য, অধবসায়, উদ্যমের প্রতীক। তাই হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসীরা মনে করেন গণেশের বাহন ইঁদুর।

ষাড়: এ প্রাণীটি হিন্দু ধর্মীয় দেবতা শিবের বাহন। ষাঁড় শক্তি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। শিব মোহ, মায়া, এমনকী সমস্ত ভৌতিক ইচ্ছার উর্ধ্বে। ষাঁড় অর্থাৎ নন্দী এ গুলিকে পুরোপুরি চরিতার্থ করে। তাই শিবের বাহন হচ্ছে ষাঁড়।

প্রজাপতি: হিন্দু ধর্মী রীতি ও সংস্কৃতি অনুযায়ী প্রজাপতি হচ্ছে বিয়ের দেবতা।

সূর্য: হিন্দু ধর্ম শাস্ত্র অনুযায়ী সূর্য হচ্ছে সৌর দেবতা। সুতরাং সূর্য হচ্ছে দেবতার প্রতীক। ধর্মীয় বিবরণ অনুযায়ী সূর্য হচ্ছে একমাত্র দেবতা যাকে প্রতিদিন তারা প্রত্যক্ষ করতে পারে। হিন্দু ধর্ম ছাড়াও পৌত্তলিক ধর্মে বিশ্বাসীরা সূর্যকে দেবতা মনে করে।

উপরের যে বর্ণনা গুলো উল্লেখ করা হয়েছে সব গুলোই মঙ্গল শোভাযাত্রায় ব্যবহার করা হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রায় সবার হাতে থাকে এই প্রতীক। শোভাযাত্রার নামে ১৯৮৯ সালে এই সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার গভীরতা অনেক বেশি। বাংলা সন চালুর পর থেকে যদি এমন শোভাযাত্রা চালু হতো সেটা মানতে আমাদের কোন আপত্তি থাকতো না। অন্তত মুসলিম বাংলা হিসাবে পরিচিত এ ভুখন্ডে এমন কোন ইতিহাস খুজে পাওয়া যায় না। কিন্তু হঠাৎ করে বাংলা সনের পহেলা বৈশাখের সাথে কৌশলে এটা আমাদের সংস্কৃতিতে প্রবেশ করানো হয়েছে।

বাংলা সনের সাথে মিল রেখে বৈশাখে হালখাতা, গ্রামীন মেলা বসা, মিষ্টি, খই, ওখড়া, কদমা সহ নানা রকমের মিঠাই-এর প্রচলন রয়েছে। এটাকে আমাদের সংস্কৃতির অংশ বলা চলে। কিন্তু ১৯৮৯ সাল থেকে চাপিয়ে দেওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রার নামে একটি বিশেষ ধর্মে বিশ্বাসী দেবতার প্রতীক বহন করা আমাদের সংস্কৃতির অংশ নয়। তারপরও ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে এই সংস্কৃতি ৩০ বছরে অনেক ঢালপালা বিস্তৃত করতে পেরেছে নিজেদের সাংস্কৃতিক বিশ্বাসে দৈন্যতার সুযোগে। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় সংখ্যা গরীষ্ঠ মানুষের ভোটে বিজয়ী সরকার যদি ১৯৮৯ সালে চালু হওয়া ‘মঙ্গল শোভাযাত্রার’ তাৎপর্য অনুভব করতে পারতেন তাহলে হয়ত ঢালপালা এতটা বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ মিলত না।
লেখক: দৈনিক আমার দেশ-এর বিশেষ প্রতিনিধি, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত।

NB: কেউ আমার কথায় বিশ্বাস করতে কষ্ট হলে ধৈর্য ধরে নিচের লিঙ্ক গুলো পাঠ করে নেবেন। প্রতীক গুলোর বর্ণণা ওখান থেকেই নেয়া। আর এ গুলো লিখেছেন হিন্দু ধর্শে বিশ্বাসী লেখকরা। তাদের লেখা প্রকাশ করেছিলেন ইন্ডিয়াপন্থি বাংলা জাতীয় দৈনিক। এছাড়া কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিকের লিঙ্কও রয়েছে। আরো আছে মঙ্গ শোভাযাত্রার ইতিহাস।

https://www.anandabazar.com/editorial/why-lord-ganesha-and-ganesh-puja-getting-popularity-among-bengali-society-1.209190

http://archive.prothom-alo.com/detail/date/2012-10-22/news/299946

http://archive.prothom-alo.com/detail/date/2012-10-22/news/299946

https://www.anandabazar.com/editorial/why-lord-ganesha-and-ganesh-puja-getting-popularity-among-bengali-society-1.209190

http://archive.prothom-alo.com/detail/date/2012-10-22/news/299946http://www.anandabazar.com/editorial/why-lord-ganesha-and-ganesh-puja-getting-popularity-among-bengali-society-1.209190

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here